স্ত্রীকে অচেতন করে মেয়েকে ধর্ষণ, বাবা গ্রেপ্তার

একুশের বার্তা ডেস্ক- রাজধানীতে স্ত্রীকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ১৫ বছর বয়সী এক মেয়েকে রাতভর ধর্ষণ করেছে তার বাবা। এই অভিযোগে মেয়ের মামলার পর বাবা মো. জালাল ভুইয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এক কিশোরী তার বাবার বিরুদ্ধে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। পরে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা বাজারের একটি বাসা থেকে জালালকে বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনার তিন মাস আগে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে তিন মাস কারাভোগ করেছিল জালাল। কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় তার গ্রামের বাড়ি।

তিনি বলেন, গেল রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এর আগে চিনির সঙ্গে পাউডারজাতীয় চেতনানাশক মিশিয়ে জালাল তার স্ত্রীকে খাওয়ান। ওই কিশোরী তার দুই বছরের ছোট ভাই, মা ও বাবা জালাল একই বিছানায় ঘুমাতেন। চেতনানাশক খেয়ে জালালের স্ত্রী আগেই ঘুমিয়ে পড়েন। তাদের দুই ছেলে-মেয়েও ঘুমিয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়েকে বিছানা থেকে মেঝেতে নিয়ে ধর্ষণ করে জালাল। সে সময় কিশোরী তার মাকে ধাক্কা দিয়ে উঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকায় তাকে উঠাতে পারেনি। পরের দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মায়ের জ্ঞান ফেরে।

ওই কিশোরীর বরাতে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, জালাল ওই ঘটনার আগেও চার-পাঁচদিন ওই কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। তখন মেয়ে এই বিষয়ে তার বাবাকে সতর্ক করে। তার বাবা ভুল বুঝতে পারবে বলে ভেবিছিল ওই কিশোরী। কিন্তু জালাল আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

পরে মা ও অন্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে খিলগাঁও থানায় মামলা করে ওই কিশোরী। সে সময় কিশোরীর সঙ্গে তার মাও আসেন থানায়।

জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, তবে মেয়ের মাকে চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছে কিনা এবং কিশোরীর অভিযোগ সঠিক কিনা, তা নিশ্চিত হতে আমরা তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

এদিকে খিলগাঁও থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জালাল ভুইয়া ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *