এবার খালেদার করা আইনের বিরোধীতা করলেন বিএনপির দুই এমপি

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ২০০২ সালে তৎকালীন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন পাস করে। যদিও তখন সেই আইনের বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। নতুন করে আইনটির মেয়াদ বাড়াতে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০১৯ পাসের আগে চরম বিরোধিতা করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাতে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই এর প্রস্তাব দেন তারা।

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আইনটি যাদের ওপর প্রয়োগ করার কথা তাদের উপর প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না? ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে কিভাবে আদালতে নিপীড়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের ওপর কিভাবে নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। যারা এই কাজগুলো করেছে তাদের বিরুদ্ধে কী এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশে প্রথিত যশা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যারা এই নির্যাতন করেছে তাদের বিরুদ্ধে কেন এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না। আইনটি আসলে বিরোধী দলের দমনের জন্যই করা হয়েছে।’

বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিলটি সম্পর্কে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমান সংসদ নেতা ২০০২ সালের ১৮ নভেম্বর বলেছিলেন এই দ্রুত বিচার আইনটি কেন করা হচ্ছে, এখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। আর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে দেশের আইন শৃঙ্খলার কোনই উন্নতি হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গত দশ বছরে ঠিক তাই দেখেছি। বিএনপি নেতাকর্মীদের নানা রকম হয়রানি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকার এই আইনটার মজা এতটাই পেয়েছে যে ২০১৪ সালে এক দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পরে আবারও একদফা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সংসদে নিয়ে আসা হয়েছে।’

অন্যান্য আইনের মতো এই আইনটিকে স্থায়ী না করে ঠিক নিজের মেয়াদ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে, অর্থাৎ যতদিন সরকারি দলে থাকবে ততদিন পর্যন্ত যেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন চালানো যায় সেটাই আইনের মূল উদ্দেশ্য। এই আইনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। তাই এই আইন আদৌ থাকার প্রয়োজন আছে কি না? সেটার জন্যই জনমত বাছাই করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *