ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক- অপেক্ষাটা ছিল বহুদিনের। ২০০৯ সালে দেশের মাটিতে প্রথম কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলার থেকে ব্যাটসম্যান বনে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা হারানোর দুঃখে পোড়ে বাংলাদেশ।

এরপর আরো পাঁচবার তীরে এসে তরী ডুবেছে টাইগারদের। অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিরোপা-খরা ঘোচাল বাংলাদেশ। শুক্রবার আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই নতুন ইতিহাস গড়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

আর এর অন্যতম রূপকার টাইগার ওপেনার সৌম্য সরকার ও লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাদের ঝড়ো ব্যাটে এক রকম উড়েই গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৪ ওভারে ২১০ রানের কঠিন লক্ষ্যও ছুঁয়ে ফেলল মাত্র ৫ উইকেটের খরচায়। বল বাকি ছিল আরও সাতটি।

সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ ও মোসাদ্দেক ২৪ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৫২ রানের দাপুটে ইনিংস।

অথচ কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবীয়রা ব্যাটিং শুরু করলে ২১.১ ওভারে হানা দেয় বৃষ্টি। ফলে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ থাকে। এরপর ম্যাচ শুরু হলে ওভার কমিয়ে আনা হয় ২৪ ওভারে। বাকি তিন ওভার ব্যাটিং করে জ্যাসন হোল্ডাররা ১ উইকেটের বিনিময়ে সংগ্রহ করে ১৫২ রান। এখানে এই সংগ্রহে মূল অবদানটি রাখেন দলের ‍দুই ওপেনার সেইহোপ ও সুনীল আমব্রিস। হোপ করেছেন ৭৪ রান আর আমব্রিস অপরাজিত ছিলেন ৬৯ রানে। কিন্তু বৃষ্টি আইনে মাশরাফিদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। ওভার প্রতি রান রেট ৮.৭৫, অর্থাৎ প্রায় ৯ করে প্রয়োজন ছিল টাইগারদের।

ভেজা আউটফিল্ড। ব্যাটসম্যানেরা সজোরে বল হাকালেও মাঠ গড়িয়ে বল বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করাটাই ছিল দূরূহ। এমন কণ্টকাকীর্ণ ম্যাচেও ফুল ফোটাল লাল সবুজের অদম্য দলটি। যার শুরুটা করেছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। দলীয় ৫৮ রান পর্যন্ত ক্যারিবীয় বোলারদের কোনো উইকেটই দেননি।

তবে দলীয় ৫৯ রানে এসে পা হারালেন তামিম। তখন ৬ ওভারের খেলা চলছে। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের তৃতীয় ডেলিভারিটি মিড অফে জ্যাসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন। এর আগেও একবার তাকে প্যাভিলনে ফেরত পাঠানোর উপলক্ষ এসেছিল উইন্ডিজ শিবিরে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কেমার রোচোর ডেলিভারিটি খেলতে গিয়ে তুলে দিয়েছিলেন শর্ট থার্ডম্যানে। কিন্তু অ্যাশলে নার্স তা তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। ফেরত যাওয়ার আগে দলকে দিয়ে গেছেন ১৮ রান।

তামিমের বিদায়ে রানের চাকা সচল রাখতে অর্ডার বদলে মারকুটে সাব্বিরকে নামানো হয় তিনে। অবশ্য কৌশলটি কাজে দেয়নি। কেননা ওই ওভারেই রানের খাতা না খুলে গ্যাব্রিয়েলের শেষ বলে এলবি’র ফাঁদে পড়ে ইনিংসের ফুল স্টপ টানেন সাব্বির। চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

কিন্তু সৌ’ম্যর টর্নেডো ব্যাটে সেই চাপ উড়ে যায়। দারুণ দৃষ্টিনন্দন এক একটি শটে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি তুলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন এই টাইগার ওপেনার। বলে রাখা ভালো ত্রিদেশীয় সিরিজে এটি তার টানা তৃতীয় অর্ধশতক।

উইকেটের অপর প্রান্তে অপেক্ষাকৃত ধীরলয়ের ব্যাটে তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুজনের বোঝাপড়ায় বেশ ভালই এগুচ্ছিল লাল সবুজের ইনিংস। ঠিক তখনই আবার ছন্দপতন। ৪১ বলে ৬৬ রানের দাপুটে ইনিংস খেলে রেইফেরের বলে বদলি খেলোয়াড় কোট্রেলের ক্যাচ হয়ে ফিরে গেলেন সৌম্য।

সৌম্য’র বিদায়ের পর দলের সঙ্গে ২৫ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে রেইফেরের শিকার বনে ফিরে গেলেন মুশফিকুর রহিম। আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ। উইকেটের অপর প্রান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ছিলেন সত্যি কিন্তু প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেননি। মাত্র ১৭ রান করে ফ্যাবিয়েন এলিনের বলে ফিরে গেলেন এলবি হয়ে।

এরপর অবশ্য আর কোনো বিপর্যয় নয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিস্ফোরক ইনিংস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটে ২২.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে স্টিভ রোডস শিষ্যরা।

মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ২৪ বলে ৫২ রানে। আর মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ১৯ রানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *