বিজ্ঞানী হয়েও চবির শিক্ষক নিয়োগে অযোগ্য

ড. সাজিদ আলী হাওলাদার ছাত্র থাকাকালীন যিনি সারা ফেলে দিয়েছিলেন সারা বিশ্বে। তিনি ’ফেজারভারিয়া আসমতি’ নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিস্কার করেন। এছাড়াও প্রাণীবিজ্ঞান বিদ্যায় সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে নিয়ে আসেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এই কৃতি তাকে এনে দেয় বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর খেতাব। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট তাকে এই স্বীকৃতি দেন। ইতালির বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল জুট্যাক্সার ২৭৬১ নম্বর ভলিউমে তার প্রথম স্বীকৃতির খবর ছাপা হয়। বিশ্বখ্যাত এই খুদে বিজ্ঞানী আর কোনো দেশের নন; তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’র (চবি) ছাত্র।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বিশ্বকে জয় করা এই বাংলাদেশী নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক হওয়ার সুযোগই পাননি। তিনি চবি’তে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে আবেদন করেন। তবে মাস্টার্স না করার কারণ দেখিয়ে তাকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়ম সাজিদকে দেশের মাটিতে শিক্ষকতা করার স্বপ্নকে ভেঙে দেয়।

আর মাস্টার্স না করা এই বিজ্ঞানীর অধীনেই এখন অনেক নামকরা ছাত্র মাস্টার্স করছেন। সাজিদের কাজে আকৃষ্ট হয়ে বেলজিয়ামের ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের জীববিজ্ঞানের প্রবীণ শিক্ষক ফ্রাঙ্কি বসুইট তার অধীনে মাস্টার্স করার আমন্ত্রণ জানান। তবে সেখানে যাওয়া হয়নি সাজিদের। কিন্তু ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক ইয়োহা মারিলা তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাস্টার্স ছাড়াই বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে নেন। এজন্য সাজিদ ৩০ বছর বয়সের আগেই পিএইচডি শেষ করেন।

এ বিষয়ে ড.সাজিদ গণমাধ্যমের কাছে জানান, বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য গোটা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি থাকার কারণে এখানে গবেষণার অনেক সুযোগ আছে। বাংলাদেশে একটি ‘প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর’ বানাতে চান তিনি। এখানে প্রাণিবৈচিত্র্যের নমুনা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধানে মৌলিক গবেষণা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন জাদুঘর আছে।

তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থাতেই রাশিয়া একাডেমি অব সায়েন্স এবং চায়না একাডেমি অব সায়েন্স এমন একটি জাদুঘর বানানোর জন্য প্রস্তাব দেন তাকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় তা করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০০৯ সালে ব্যাঙ নিয়ে সচেতনতামূলক ব্যাঙমেলার আয়োজন করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির অভয়ারণ্য তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রেও তিনি পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।

আরো জানান, বর্তমানে ফিনল্যান্ডের জিভাসকিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের অধীনে বিবর্তনবাদ শাখায় গবেষক পদে নিযুক্ত আছেন। সেখানে আমার অধীনে অনেক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হলে তাকে মাস্টার্স করতে হবে। বিষয়টিতে অবাক হয়েছি।

বর্তমানে সাজিদের আবিস্কৃত ব্যাঙের সংখ্যা ৪টি। এমনকি তিনি জাকেরানা নামে প্রাণীর নতুন একটি গণেরও নামকরণ করেছেন। এর মধ্যে ‘জাকেরানা ঢাকা’ আবিস্কারের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। বিষয়টি নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি গবেষণার জন্য ফিনল্যান্ডের ‘হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *