মশার কামড়ের কেউ মারা গেলে ক্ষতিপূরণ পাবে কি-না?

মশার কামড়জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হলে দুর্ঘটনা বিমার ক্ষতিপূরণ মিলবে না বলে রায় দিলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সেই ব্যক্তির পরিবার দুর্ঘটনা বিমার ক্ষতিপূরণ পাবে কি- না এই মর্মে ২০১২ সালে সুপ্রিমকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিশেষ রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট।

রায়ে বলা হয়েছে, মশার কামড়ে কারো মৃত্যু হলে পরিবার দুর্ঘটনা বিমা পাবে না।

ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ এইটিন জানায়, দেবাশীষ ভট্টাচার্য নামে ভারতীয় এক নাগরিক বেশ কয়েক বছর আগে মোজাম্বিকে চাকরি করতে গিয়েছিলেন। মোজাম্বিকে তিনি এনসেফালাইটিস ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। ২০১২ সালে মাল্টিপল অরগ্যান ফেলিওরের ফলে তার মৃত্যু হয়। ওই ব্যক্তির বিমা পলিসিতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে বলে কথা ছিল।

কিন্তু মশার কামড়ে মৃত্যু হওয়ায় মৃত ব্যক্তির পরিবার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে কি- না এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

রাজ্য ও জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা মঞ্চ পেতে পারে বললেও বিমা কোম্পানি জানিয়েছে, মশার কামড়ে কেউ মারা গেলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে না। অতঃপর সেই মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিমকোর্টে।

ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড নামে বিমা কোম্পানিতে দেবাশীষের বিমা ছিল। কোম্পানিটির দাবি, মশার কামড়ে কেউ যদি আক্রান্ত হন, তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছেন বলা যায় না। বিমা কোম্পানির পক্ষে এ বিষয়ে আদালতে কথা বলেন অ্যাডভোকেট মাধবী দেওয়ান।

নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে এ আইনজীবী বলেন, ২০১৮ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ম্যালেরিয়া নিয়ে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে মোজাম্বিকে ১ কোটি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জন মারা গিয়েছেন। সেই দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। তাকে দুর্ঘটনা বলা যায় না।

অন্যদিকে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের বক্তব্য, কুকুর বা সাপে কামড়ালে অথবা কেউ যদি ফ্রস্ট বাইটের শিকার হয়, তারা বিমার টাকা পেয়ে থাকে। তাহলে মশার কামড়ের ক্ষেত্রেই বা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না কেন?

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের সঙ্গে একমত হয়নি। ১৬ পৃষ্ঠার ওই রায়ে আদালত জানিয়েছেন, মোজাম্বিকে ম্যালেরিয়া হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার।

সারা বিশ্বে যত ম্যালেরিয়া রোগী আছেন, তাদের পাঁচ শতাংশই মোজাম্বিকের মানুষ। সেখানে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। এই তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, সেই দেশে কেউ যদি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন, তাহলে বলা যাবে না দুর্ঘটনা হয়েছে। অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *