বাউফল থানার ওসির এক সিদ্ধান্তে পাল্টে গেল কৃষকদের ভাগ্য

বাউফল প্রতিনিধি: লাঙ্গল যার জমি তার এমন একটি উদ্দ্যোগ নেওয়ার ফলে এ বছর পটুয়াখালীর বাউফল থানায় বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটা নিয়ে কোন মামলা হয়নি। হয়নি কোন হানা হানি, উপজেলায় এ বছর এটি একটি বিরল ঘটনা।

এ বিরল ঘটনাটির পিছনে যার ভূমিকা তিনি হলেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মকর্তা তার নিজ চেষ্টায় সফলও হয়েছেন। কর্মকর্তা সফল হওয়ায় সুফল ভোগ করেছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাউফল উপজেলার ছোট বড় ১৯টি চরের মধ্যে ১১টি চর মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। বরিশালের বাকেরগঞ্জ এবং ভোলার বোরহান উদ্দিনের সীমান্তবর্তী এসব চরে খাস জমি রয়েছে ৬ হাজার ৬৩২ একর। তবে বেসরকারিভাবে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে একাধিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান জানান। এসব জমি বন্দোবস্ত ছাড়াও চরের কিছু খাসজমি চাষাবাদ করেন স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকরা। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা চাষ করেছেন। কিন্তু বিগত বছর গুলোতে যখনই ধানে রং ধরতো তখনই কতিপয় লাঠিয়াল ও জোতদার বাহিনী তাদের দাবি করে লুট করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ত। ফলে হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হওয়ার মতন ঘটনা ঘটতো। কিন্তু এ বছর তার বিপরীত। কোন প্রকার সহিংতা ছাড়াই প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকরা তাদের কষ্ঠার্জিত সোনালী ফসল জমি থেকে কেটে ঘড়ে নিতে পেরেছেন।

উপজেলার ছোট বড় ১৯টি চর নিয়ে গঠিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক সাহেব আলী বলেন, এ ইউনিয়নে এমন ঘটনা এই প্রথম কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই আমরা কর্ষ্টার্জিত ফসল নির্ভিগ্নে ঘরে তুলতে পেরেছি।

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় খাস জমি নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে বিরোধ ছিল। এলাকার ভূমিহীন কৃষকরা নিজ খরচায় জমি চাষ করত, আর ধান পাকলে প্রভাবশালীরা গায়ের জোরে পাকাধান কেটে নিয়ে যেত। এ নিয়ে পক্ষ বিপক্ষ গ্রুপ হয়ে একের পড় এক মামলা হতো। আমি এ থানায় যোগ দেওয়ার পড় সংশ্লিদের জানিয়ে দিলাম লাঙ্গল যার জমি তার, যে চাষী চাষ করবে সেই চাষি ফসল তুলবে। এমন একটি ঘোষণায় এ বছর ধানকাটা নিয়ে বাউফল থানায় একটিও মামলা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *