অভিনয়ের জন্য মন কাঁদলেও সুযোগ হয় না

ঢাকাই চলচ্চিত্রের মমতাময়ী মা খালেদা আক্তার কল্পনা। এক সময় লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনেই দিনের পুরোটা সময় কেটে যেত। কিন্তু সে সব এখন শুধুই অতীত। ইচ্ছা থাকলেও ক্যামেরার সামনে এখন আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি।

১৯৮৪ সালে লন্ড্রি দোকান থেকে আনা কাপড়ের সঙ্গে এক টুকরা কাগজে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। এরপর কৌতূহলবশে ওই ঠিকানায় একটি আবেদন পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন বাধেঁই ডাক পান তিনি।

এরপর এক সময়ে মঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করা বন্ধু পঙ্কজ বৈদ্যর সঙ্গে অডিশন দিতে প্রথম এফডিসিতে আসেন। প্রথম দিনেই তাৎক্ষণিকভাবে একটি অভিনয় দেখাতে বলেন বিচারকরা। তিনি তখন পাগল চরিত্রে অভিনয় করে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে নতুন মুখের শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর খালেদা আক্তার কল্পনা ঢাকাই ছবির একটি ইতিহাস!

ঢাকাই চলচ্চিত্রে মা চরিত্রে অভিনয় করে যে কয়জন অভিনেত্রী জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তার মধ্যে খালেদা আক্তার কল্পনা অন্যতম। এখন আর অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে।

ইচ্ছা থাকলেও ক্যামেরার সামনে এখন আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি। কেউ ডাকে না। শেষ কোন ছবিতে কবে শুটিং করেছিলেন মনে করতে পারেন না তিনি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন তিনি। জানান বর্তমানে এ অভিনেত্রীর সময় কাটে বাসায় শুয়ে-বসে। তাই বেশিরভাগ সময় গল্প লেখেন। সেগুলোর স্ক্রিপ্টও তৈরি করেছেন। বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রসঙ্গ, মা দিবস ও ভালোবাসা দিবস নিয়েও কয়েকটি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন তিনি। কিন্তু চ্যানেল কিংবা জনপ্রিয় কোনো পরিচালকের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই বলে স্ক্রিপ্টগুলো কাজে লাগাতে পারছেন না।

কষ্ট নিয়ে কল্পনা বলেন, ‘এমনও দিন গেছে একদিনে কয়েকটি ছবির শুটিং করেছি। সকালে একটা, দুপুরে, রাতে এমনকি মধ্যরাতেও ছবির শুটিং করেছি। কিন্তু এখন আর নেই কোনো শুটিং। বাস্তব জীবন এখন গল্পের মতো হয়ে গেছে।’ এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন খালেদা আক্তার কল্পনা। ইবনে মিজানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করলেও তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হচ্ছে মতিন রহমানের ‘রাধাকৃষ্ণ’।

বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের অবস্থাও নাকি এখন খুব বেশি ভালো নয় বলে শুনেছি। কারও সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হয় না। বর্তমানে অন্তত ১৫টি নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখা আছে। স্ক্রিপ্টগুলো কাকে দেব তাও বলতে পারছি না। জানি না বেঁচে থাকতে নিজের লেখা নাটক পর্দায় দেখে যেতে পারব কিনা।’ ভালো কোনো প্রযোজক বা পরিচালককে স্কিপ্টগুলো দিতে চান এ অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম থেকে যদি সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো আমার গল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে।

প্রসঙ্গত, খালেদা আক্তার কল্পনার প্রথম পেশা ছিল শিক্ষকতা। শিক্ষকতা থেকেই অভিনয়ে আসেন তিনি। অভিনয় জীবনে খালেদা আক্তার কল্পনা ‘জিনের বাদশা’ (১৯৮৪) ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *