ফেনীর হাসপাতালগুলোতে অনুমতি ছাড়া নেশার ইনজেকশন ব্যবহার

ফেনী প্রতিনিধি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স কিংবা অনুমতি না নিয়ে ফেনী শহর সহ জেলার হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে নেশার ইনজেকশন। জেলার ২২টি সহ জেলা ৩৭টি প্রাইভেট হাসপাতালে হরহামেশা এসব ইনজেকশন ব্যবহার করা হলেও সরকারি আদেশের কোন বালাই নেই।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন অপারেশনের রোগিদের অচেতন করতে নেশা জাতীয় ইনজেকশন প্যাথডিন, মারফিন, ইপিডিন, বিউরিপেন, বুপ্রেনরফাইন, ইজিয়াম, সেডিল, কোসিয়াম সহ বিভিন্ন ধরনের চেতনানাশক ও নেশা জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। আর এসব ইনজেকশন ব্যবহারে একজন রেজিষ্ট্রার্ডকৃত চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হয়। ব্যবহার, বিক্রি, সংরক্ষণ, মজুদ এমনকি পরিবহন করতে হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় মাত্র ২টি হাসপাতাল ও ৫টি ফার্মেসীতে প্যাথডিন ও অজ্ঞান করার ইনজেকশন বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী ডায়বেটিক হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশান এন্ড রিসার্স সেন্টার, রাজ্জাক মেডিকেল হল, গোবিন্দ ফার্মেসী, বাপ্পি মেডিকেল হল, পঞ্চরত্ন ফার্মেসী, মৌসুমি ফার্মেসীর অনুমতি রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক প্রত্যেক হাসপাতালে অপারেশান করা রোগীদের সার্জারি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশানের মূল কপি ফার্মেসীর মালিক ও বিক্রেতার কাছে জমা দিলে বিক্রেতা তা দেখে ঔষুধ বিক্রি করবে। সেই প্রেসক্রিপশান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক মাসের শেষে প্রতিবেদন আকারে জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে লাইসেন্সকৃত ৫টি ফার্মেসীর মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা লাইসেন্স প্রতিবছর নবায়ন করা হলেও গত ১ বছরে একটি প্যাথডিনও বিক্রি হয়নি।

বাপ্পি মেডিকেল হলের মালিক রাজ্যেস্বর দেবনাথ জানান, গত ১ বছরে একজন ক্রেতা তার দোকানে প্যাথডিন কিনতে আসেনি। এ ইনজেকশন কিনতে হলে নানা ধরনের জটিলতা থাকায় আমরা এখন কেনাবেচা করিনা।

জানতে চাইলে ফেনী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু আবদুল্লাহ জাহিদ জানান, ফেনীতে হাসপাতাল মালিকদের প্যাথডিন ও নেশাজাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করতে লাইসেন্স নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি হাসপাতাল আবেদন করেছে। যারা এ লাইসেন্স ব্যবহার ও বিক্রি করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *