করোনা: ব্রিটেনে বাংলাদেশিরা কেন বেশি ঝুঁকিতে?

ব্রিটেনে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাংলাদেশিদের মৃত্যু হচ্ছে এমন একটি খবরে সেখানকার প্রবাসীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। কেন এমনটি হচ্ছে তা নিয়ে অনেকেই অন্ধকারে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশিসহ কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকার অন্যতম কারণ তাদের ‘স্কিনটোন’।

প্রফেসর অ্যাড্রিয়ান মার্টিনিউ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে। এ কারণে নভেল করোনাভাইরাস তাদের বেশি ক্ষতি করছে।’

মার্টিনিউ বলছেন, ‘এই সমস্যার কারণে তাদের ত্বকে একটা প্রভাব দেখা যায়। যাকে আমরা স্কিনটোনের প্রভাব বলি।’

‘ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকলে ত্বকের রংয়ে প্রভাব পড়ে। সেটি তখন চামড়ায় ভিটামিন ডি সংশ্লেষণে সূর্যরশ্মির আল্ট্রভায়োলেট বি-কে বাধা দেয়। কৃষ্ণাঙ্গ এবং এশিয়ানদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হয়।’

‘আমরা জানি অ্যান্টিভাইরাল সমস্যার ক্ষেত্রে ইমিউনিটি ভালো কাজ করতে হলে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

ব্রিটেনের সংখ্যালঘুদের বেশি মৃত্যুর জন্য আগেও নানা ধরনের কারণ দেখানো হয়েছে। ভিটামিন ডি-র বিষয়টিও তখন বলা হয়। কিন্তু এই প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে বিশদ ব্যাখ্যা দিল।

বাংলাদেশিদের এই পরিণতির জন্য ব্রিটিশ সরকার জুনের শুরুতে তাদের জীবনযাপনের ধরণকে দায়ী করে। তখন বলা হয়, একসঙ্গে অনেক মানুষ বসবাসের কারণে তাদের বেশি ভুগতে হচ্ছে।

কিন্তু সাইদুল হক সায়েদ নামের একজন প্রবাসীর অভিযোগ, ‘কয়েক দশকের অসমতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করার কারণে প্রাণঘাতী এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।’

৪১ বছর বয়সী সাইদুল গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘এটা কোনো ইস্যু নয়। এ কথা বলা মানে কাঠামোগত বর্ণবাদের আরেক রূপ। হেলথ কমিশনাররা বছরের পর বছর আমাদের সমস্যাগুলো এড়িয়ে গেছেন। এখন এটি বলে তারা নিজেদের দায় এড়াচ্ছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *