করোনায় করণীয় নিয়ে আলেমদের প্রতি জবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আহ্বান

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব ও দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশবাসী ও মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন,মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু সৌদি আরবের পবিত্র হারামাইনে সর্বশেষ জুমা ও মসজিদের জামাত আদায় সর্বসাধরণের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মিসর, কুয়েত,আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র একই অবস্থা। সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

সবাই সচেতন না হলে কেবল সরকারের পক্ষে করোনা বিপর্যয় থেকে জাতিকে সুরক্ষা দেয়া অত্যন্ত দুরূহ হবে বলে আমরা মনে করি।’

তারা বলেন, আমাদের দেশ ও জাতিকে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি থেকে সচেতন করতে প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমরা এখন কঠিন সময় অতিক্রম করছি এবং সামনে আরও কঠিনতম সময় আসতে পারে। এমতাবস্থায় ইসলামি শরীয়ার উদ্দেশ্য (মাকাছিদ) অনুযায়ী জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধর্ম, বুদ্ধি-বিবেক, সম্পদ ও বংশের সুরক্ষা দিতে হবে।

অভিজ্ঞমহল কর্তৃক এ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব (ভাইরাস ছড়ায় এ রকম বিষয়কে এড়িয়ে চলা) নিশ্চিতকরণ প্রাথমিক অত্যাবশ্যক করণীয় নির্ধারণ করার প্রেক্ষাপটে আমরা জাতিকে তা সর্বক্ষেত্রে অনুসরণের আহ্বান জানাই।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামে জুমার বিকল্প থাকায় সামাজিক দূরত্ব রেখে ধর্মীয় ইবাদত পালন সম্ভব। নামাজ বাসগৃহে জামাতবদ্ধ হয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় জরুরি কারণে মসজিদে অনুপস্থিতির সুযোগ থাকছে। আমরা বিশ্বাস করি,এই সময় চলে যাবে এবং সুদিন আসবে।

কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কঠোরতার পর প্রশ্বস্ততাও রয়েছে’ (সূরা ইনশিরাহ : ৫)। মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধব্বনিতে আবার মসজিদের সারিগুলো মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াহি ওয়া সাল্লাম কাদা মাড়িয়ে মসজিদে না আসার অনুমতি দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু অনিবার্যকারণে বাসগৃহ ও অবস্থানস্থলে নামাজ পড়ার তাগিদ দিতে সাময়িকভাবে আজানের দুয়েকটি শব্দ পরিবর্তন করেছিলেন (বুখারী, ৬৬৬; মুসলিম,৬৯৭)।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াহি ওয়া সাল্লাম উতবান ইবন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে গিয়ে সুনির্দিষ্ট স্থানে নামাজ পড়ে এসেছেন যাতে তিনি ওই স্থানে নামাজ পড়তে পারেন (বুখারী, ৪১৫)।’

জবির ১৬ শিক্ষক আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে হাদিস ও সিরাতের এসব ঘটনাবলি উপস্থাপনের জন্য প্রাজ্ঞ আলেম সমাজকে আহ্বান জানাই। জাতির এ দুর্যোগের মুহূর্তে প্রাজ্ঞ আলেম সমাজ বসে থাকতে পারে না।

বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আলেম সমাজের বার্তা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সর্বশেষ একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রীও এরূপ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। আলেম সমাজ তাদের করণীয় নির্ধারণ করে জাতিকে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। প্রত্যাশা করি, এর ফলে জনগণ জুমা, মসজিদে জামাত, ধর্মীয় জনসমাগমসহ হাট-বাজার, খেলার মাঠ, ভ্রমণকেন্দ্র, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদি স্থানে সামাজিক দূরত্বকে নিশ্চিত করবে।’

বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন,জবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল অদুদ,সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন,বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জবির প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ নূরুল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারেক বিন আতিক, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আতিয়ার রহমান, সহকারী অধ্যাপক মোবারক হোসেন,সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *