আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

একুশের বার্তা ডেস্ক- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেসময়ের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার কথা, মুক্তির কথা শুনিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কৌশলগতভাবে সেদিনই দিয়েছিলেন, বাঙালীর বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতার ঘোষণা। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণটি স্থান করে নিয়েছে, ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে।

বাঁশের লাঠি আর প্লাকার্ড নিয়ে সকাল থেকেই মিছিলের নগরী ঢাকা। জনস্রোতের ঠিকানা রেসকোর্স ময়দান। দুপুরের আগেই জনস্রোত হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। তিল ধারণের জায়গা নেই কোথাও। আশে-পাশের বিভিন্ন গাছেও ওঠে অনেকে।

৭ মার্চ সকাল থেকেই জাতির পিতার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে আসছিলেন অনেকেই। একটি ইতিহাস রচনা হবে। একটি ভাষণের মধ্য দিয়ে সমগ্রজাতিকে এক করার ইতিহাস। সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ শুনতে ব্যাকুল প্রতীক্ষা সর্বস্তরের মানুষের।

বিকেল তখন ঠিক তিনটা বিশ মিনিট। দৃপ্ত পায়ে হেটে মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন ইতিহাসের মহা নায়ক, বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

চশমাটি খুলে টেবিলে রেখে, বজ্রকন্ঠে শুরু করেন সেই মহাকাব্যিক অলিখিত ভাষণ। প্রধানমন্ত্রীত্ব না চেয়ে দেশের মানুষের অধিকার চেয়ে, ডাক দেন স্বাধীনতার সংগ্রামের, মুক্তির সংগ্রামের।

অবশেষে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে, ৭ কোটি বাঙালীকে মুক্ত করতে- বঙ্গবন্ধু শোনালেন তার সেই অমর কবিতাখানি: আসে সেই নির্দেশ, আসে মুক্তির ঘোষণা, আসে স্বাধীনতার ঘোষণা।

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণের পর নিরস্ত্র বাঙালী মুক্তির প্রহর গুনতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন শুরু হয় সারা দেশে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহাকাব্যিক ভাষণের মাধ্যমে দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণায় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণসহ বিশ্ববাসী এবছর উদযাপন করতে যাচ্ছে মুজিব শতবর্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *