শোকে শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহত সেনাসদস্যদের স্মরণ

একুশের বার্তা ডেস্ক- আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ১১ বছর আগের এই দিনে পিলখানায় ভয়াবহ এক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। মুহুর্মুহু বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঢাকা শহর। শহরবাসীর ঘুম ভাঙে সেই শব্দে। বিডিআরের বিপথগামী সদস্যরা বিদ্রোহ করে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই ঘটনায় মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের আজও দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে। স্বজনহারাদের কান্না এখনো থামেনি। এখনো তাদের হৃদয়ে চলছে রক্তক্ষরণ।

হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন এখনো তাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাই সকাল থেকেই বনানী সামরিক কবরস্থানে জড়ো হয়েছেন পিলখানার ঘটনায় নিহত সেনা সদস্যের পরিবার। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তারা স্মরণ করেন না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া স্বজনদের। গভীর মমতায় ফুল ছড়িয়ে দেন তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নের ওপর।

শুধ স্বজনরাই নন, ‘পিলখানা হত্যা দিবসে’ নিহত সামরিক সদস্যদের স্মরণে তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এর আগে, রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরি নিহতদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহিন ইকবাল, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ সাফিনুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

২০০৯ সালে এই দিনে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে শুরু হয় ‘বিডিআর বিদ্রোহ’। বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ওই বাহিনীর ৭৪ সদস্য নিহত হন। নিহতদের তালিকায় ছিলেন তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল। সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিডিআরের গুলিতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *