কুমিল্লা ১১৩টি হত্যাকান্ড!

বিগত অন্যান্য বছরের তুলনায় কুমিল্লায় ২০১৯ সালে সংঘটিত হত্যাকান্ডের মাঝে অস্বাভাবিক ভাবে সংঘটিত হয়েছে হত্যা ও আত্মহত্যা ঘটনায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। একটি অটোরিক্সর জন্য চালককে খুন, ছিনতাই, ভাগভাটোয়ারা, মোবাইল কারণে নেশাখোর, রাজনীতি প্রতিহিংসা, পরকীয়ার কারণে প্রতিনিয়ত খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কথা কাটাকাটির জের, পারিবারিক বিরোধ, জায়গা সংক্রান্ত, ছিনতাই, যৌতুকের দাবী, অভিমান, অপমান ও পরকীয়া প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাসহ অন্যান্য ঘটনায় হত্যা ও আত্মহত্যা এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইভটিজিংয়ের ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন, জোড়পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কিংবা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণও ইতিমধ্যে বেড়ে চলছে।

কুমিল্লার রাজনৈতিক আতংকের বদলে শিকার হচ্ছে দূবৃত্তপনাদের আতংকে। পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কিছু হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারলেও অধিকাংশ রয়েছে অজ্ঞাত। ফলে একদিকে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলা অন্যদিকে অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। এছাড়াও বছর জুড়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতিতে জেলাবাসী আতংকিত জীবন যাপন করছে। বছর জুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় দলীয় আভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে একাধিক সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ তুলনামূলক দূবৃত্তপনাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারায় সাধারন মানুষ নিরাপত্তা নিয়েও ভাবছে। ফলে জেলার সাধারন মানুষের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। সদ্য বিদায় নেওয়া ২০১৯ সালে কুমিল্লায় প্রায় ১১৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যৌতুক, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, আধিপত্য, বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, প্রেম সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এ হত্যাকান্ডগুলো সংঘটিত হয়। বেশিরভাগ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ প্রশাসন। ঘাতকরাও গ্রেফতার হচ্ছে। তারপরেও প্রতিবছর শত শত খুনের ঘটনা ঘটছে।

জানুয়ারি মাসে ১৩টি হত্যাকান্ড ঘটে। ১ জানুয়ারী চান্দিনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় সফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ৪ জানুয়ারি দেবিদ্বারে মুখে গামছা এবং হাত-পায়ে স্কচটেপ বেঁধে মোরশেদা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ পূর্বক হত্যা করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। ৭ জানুয়ারী বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের নলুয়া-চাঁদপুর গ্রামে হাফিজ মার্কেট থেকে ২০০ গজ পশ্চিমে এক পুকুর থেকে ভাসমান যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১১ জানুয়ারি দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাও ইউনিয়নের বায়নগর গ্রামে আয়েশা আক্তার (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ১৬ জানুয়ারী ধান চিড়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নাতির লাঠির আঘাতে দাদা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল রব মিয়ার (৭২) মৃত্যু হয়। ১৬ জানুয়ারি দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউপির ঘোষবাড়ির কালিমন্দিরের পাশে গর্ত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জয় চন্দ্র ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সে চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ১৭ জানুয়ারি নাঙ্গলকোটে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নজরুল ইসলাম সোহাগ নামের এক যুবক নিহত হন। ২০ জানুয়ারি সদর দক্ষিণের বিজয়পুর ইউনিয়নে লালমতি গ্রাম থেকে অজ্ঞাত(১৮) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ জানুয়ারি দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের শাহারপাড় গ্রামে দুধ মেহার বিবি (৮০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করে ভাগ্নি রুবী আক্তার। ২১ জানুয়ারী নগরীর শাকতলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে হত্যার পর শিশু সন্তান নিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী মেহেদী হাসান। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৬ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ উপজেলায় মোঃ বাচ্চু মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশি। ২৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এক সন্তানের জননী ফিমা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধুর মৃতদেহ স্বামীর বসত ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ২৯ জানুয়ারি দাউদকান্দি উপজেলার গোমতী নদী থেকে ভাসমান অজ্ঞাত (৩০) যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারিতে ১৩ টি হত্যাকান্ড হয়। ৪ ফ্রেবুয়ারী কুমিল্লা নগরীর হাউজিং স্টেটে স্বামী-স্ত্রীর দুই পরিবারের সংঘর্ষে চাপাতির কোঁপে নিহত হন প্রতিবেশি এজাজ খান (৩০) । ৬ ফেব্রুয়ারি বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে মাশরা এলাকায় রেল লাইনের পাশের গাছে এক অজ্ঞাত (৫০) ব্যাক্তির ঝুলন্ত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। ৮ ফেব্রুয়ারি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্যালাইনের সাথে বিষ মিশিয়ে স্বামী আব্দুল গফুরকে (৭০) হত্যা করে স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৬৫)। ১১ ফেব্রæয়ারি দেবিদ্বার উপজেলায় “একতা হ্যাচারীর পুকুর থেকে মৎস্য শ্রমিক আল আমিনের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১১ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামে প্রেমঘটিত কারণে মারধরের কারণে আহত আরিফ (২১) নামের এক কলেজ ছাত্র মারা যায়। ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আব্দুল কাদির খোকনের বড় ছেলে এবং স্থানীয় মুন্সীরহাট প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী শেষ বর্ষের ছাত্র আরিফকে প্রেমিকা লিমা ফোন করে তাকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়।

পরে লিমার বাড়িতে অবস্থান নেওয়া দুর্বৃত্তরা তার উপর আক্রমণ করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি বরুড়া উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে সানাউল্লাহ (১৪) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি চান্দিনায় আপন ভাতিজার চাপাতির কোপে চাচা আব্দুল মান্নান (৫৪) এর মৃত্যু হয়। একই দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সদর দক্ষিণের কোটবাড়ি এলাকায় অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করে না পেয়ে মোঃ তৌহিদ (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে হত্যা করে অপহরণকারিরা। ২০ ফেব্রুয়ারি হোমনা উপজেলার হাতিকাটা নামক একটি বিল থেকে নাসির নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ ফেব্রুয়ারি মেঘনা উপজেলায় ডিবি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মেঘনা নদীতে ঝাপ দিয়ে প্রাণ যায় রাশেদ (২৫) নামের এক যুবকের । ২১ ফেব্রুয়ারি বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভান্তির তুলতলা গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে থেকে মেহরাব হোসেন (২০) নামের এক নৌ-বাহিনীর সদস্যের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন খাল থেকে পরিচয়হীন এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চান্দিনার বেলাশহরের একটি দিঘী থেকে নিখোঁজ শ্রমিক ইসহাকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মার্চ মাসে ৮ টি হত্যাকান্ড ঘটে। ১ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন নালঘর রাস্তার মাথা থেকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ মার্চ মুরাদনগর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় কবরস্থান এলাকায় গোমতী নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (১৮) এক কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ। ৬ মার্চ মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের রুদ্রপুর (সাটরা) গ্রামে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় নববধু পিপাসা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠে। ৭ মার্চ বরুড়া উপজেলায় মাছের প্রজেক্টের পাড় থেকে অজ্ঞাত(৪৫) যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১৬ মার্চ চৌদ্দগ্রামে তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে তাওহীদা ইসলাম ইলমা(৯) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ১৯ মার্চ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে শিল্পী বেগম নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শালদানদী এলাকায় নিজ ঘর থেকে রাকিব হোসেন নামের ৭ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ । ৩১ মার্চ কুমিল্লা সদরের চানপুর ব্রিজের একটু পশ্চিমে গোমতি নদীতে এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

এপ্রিল মাসে ১২ টি হত্যাকান্ড ঘটে। ৬ এপ্রিল কুমিল্লার লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কের নোড়াপাড়া নামক স্থানে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মনির হোসেন (৪৫) নামের সিএনজি চালক নিহত হন। ১১ এপ্রিল দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর এলাকায় গোমতি নদীতে ভেসে আসে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ । ১১ এপ্রিল সদর দক্ষিণে অজ্ঞাত যুবকের (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১২ এপ্রিল চান্দিনায় ফোন করে ডেকে নিয়ে হাসান (২৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৪ এপ্রিল বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির ফরিজপুর এলাকায় জমি বিরোধের জেরে রাসেল (১৯) নামে একজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায় । ১৫ এপ্রিল দেবিদ্বারে শ্বাসরোধ করে রেহানা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ১৫ এপ্রিল বুড়িচংয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাসেল (২০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল নাঙ্গলকোট উপজেলায় যৌতুকের বলি হলেন আমেনা আক্তার টুম্পা নামের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ। ২১ এপ্রিল অটো রিক্সায় ভাড়া না নেওয়ায় কুমিল্লা নগরীর নূরপুরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ২২ এপ্রিল নগরীর কান্দিরপাড় (নজরুল এভিনিউ) এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে এক স্কুলছাত্র খুন হয়। ২৯ এপ্রিল লাকসাম উপজেলায় প্রেমিক- প্রেমিকার চুরিকাঘাতে শামীম হোসেন সুমন (২৫) নামে এক যুবক খুন হয়েছে। ২৯ এপ্রিল সদর দক্ষিণ উপজেলায় রাশেদ নামের এক শ্রমিকের গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

মে মাসে ১৫ টি হত্যাকান্ড ঘটে। ৪ মে চৌদ্দগ্রামে পাষন্ড স্বামীর নির্যাতনে পারভিন আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ৭ মে দেবিদ্বার উপজেলায় মাদকের টাকা না পেয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছেলের ঘুষিতে নিহত হয়েছেন বাবা। ঘাতক ছেলের নাম ইয়াকুব (১৭)। নিহতের পিতার নাম বাচ্চু মিয়া (৪৫)। ৮ মে দেবিদ্বার উপজেলায় হাসিবুল হাসান নামের দেড় বছর বয়সী এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১০ মে দাউদকান্দিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিরানী সাহা(৩৮) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়েছেন। ১৩ মে বুড়িচংয়ের মোকাম ইউপি এলাকার মিথিলাপুর গ্রামে শশুর বাড়িতে প্রবাসীর স্ত্রীর শিরিনা আক্তারের (৩৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা মায়ের দাবী স্বামীর পরিবারের লোকজন টাকা লুটপাট করতেই তাদের মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। ১৩ মে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলীর এলাকার কর্ণফুলি পেপার মিল দোকানের সামনে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় কিশোর আদিলকে (১৭)। ১৩ মে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের বাখরাবাদ এলাকায় সালিশে ডেকে আবদুল খালেক(৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার ছেলে সোহেল চৌধুরী বাদল বাদী হয়ে ঐদিন রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। ১৪ মে লাকসামের নরপাটি (পূর্ব লাকসাম) ইউনিয়নে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। ১৮ মে সদর উপজেলার সাহেব নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে অজ্ঞাত কিশোরের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশ। ১৮ মে দেবিদ্বার উপজেলার শিবনগর বাজার এলাকায় টিউবওয়েল এর পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের সংঘর্ষে কিল-ঘুষিতে রমিজ মোল্লা (৫০)নামের এক ব্যবসায়ি খুন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ২০ মে চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে পাষন্ড স্বামীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে জোস্না বেগম (৪৫) নামের এক মহিলা নিহত হয়। ২৬ মে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের বড় কাঁচি গ্রামের নির্মাণাধীন ইট ভাটা থেকে মনির আহমেদ (৪০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২৭ মে মুরাদনগরে ৩ সন্তানের জননী লাইলী আক্তার(২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ৩০ মে চান্দিনা উপজেলায় সেহেরী রান্নার সময় এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় বাঁধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে স্বামীকে খুন করে প্রতিবেশি।

জুন মাসে ৭ টি হত্যাকান্ড ঘটে। ৩ জুন সদরের উত্তর কালিয়াজুড়ি এলাকায় পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চাচাত ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন প্রবাস ফেরত নাজমুল হাসান মামুন (৩২)। ৮ জুন চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রামে মোহাম্মদ আলী (৫৫) নামের এ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৭ জুন নগরীর চানপুর ব্রীজ এলাকায় কামাল হোসেন (৩৪) নামের এক যুবককে খুন করে ফেলে রেখে গাড়ীসহ মাছ নিয়ে পালিয়ে যায় ভগ্নিপতি নিজাম উদ্দিন (৪৫)। ২০ জুন চৌদ্দগ্রামের সুজাতপুর এলাকা থেকে আরো এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ জুন চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মহাসড়কের পাশ খেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। ২৫ জুন দাউদকান্দিতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় সুভ্রা নামে সাত মাসের শিশু নিহত হয়। ২৬ জুন লাকসামে পাওনা ১০০ টাকা চাওয়ায় ছুরিকাঘাতে মোঃ নজরুল ইসলাম (১৯) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়। ২৬ জুন নিখোঁজের ৭ দিন পর নারায়ণ চন্দ্রের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে বুড়িচংয়ের দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ।

জুলাই মাসে ১০ টি হত্যাকান্ড ঘটে। ৮ জুলাই বরুড়ায় এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১০ জুলাই দেবিদ্বার উপজেলায় শিশুসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২ জন। ঘাতক মোখলেছকে গনপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় জনগণ। ১৫ জুলাই কুমিল্লা আদালতে বিচারকের সামনে আসামির ছুরিকাঘাতে অপর আসামির মৃত্যু হয়। ২২ জুলাই দেবিদ্বারে পরকিয়ার প্রেমের জের ধরে ৩ সন্তানের জননীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। ২৬ জুলাই নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার রাস্তার পাশে থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (২৬) মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২৭ জুলাই নাঙ্গলকোটে সুমি আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ২৯ জুলাই মনোহরগঞ্জে জয়নাল নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জয়নালের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে।

আগষ্ট মাসে ৬টি হত্যাকান্ড হয়। ৬ আগস্ট মহানগরীর রানীর দীঘির পূর্বপাড় অন্বেষা কোচিং সেন্টারের ৬ষ্ঠ তলার ভাড়া বাসা থেকে হাফছা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১০ আগষ্ট মুরাদনগর উপজেলা সদরের হিরারকান্দা গ্রামে গোসল করাকে কেন্দ্র করে জাবেদ হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১৩ আগষ্ট সদর দক্ষিণ উপজেলায় অজ্ঞাত এক নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ১৪ আগষ্ট লালমাই উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির মর দেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২০ আগস্ট মুরাদনগর উপজেলায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ আগষ্ট সদর উপজেলার ভাটকেশ্বর( নোয়া পাড়া) গ্রামে বিয়ের মেহেদির রং মুছার আগেই জামাই, শশুর, শ্বাশুড়ি ও দেবরের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে জুলেখা (২১) নামের এক নববধুকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়।

সেপ্টেম্বর মাসে ৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ১০ সেপ্টেম্বর মুরাদনগরে মেহেদির রঙ না শুকাতেই বিয়ের ২৫ দিনের মাথায় পরকীয়ার টানে স্বামী অনিক লাল দাসকে (২৩) বিষ খাইয়ে হত্যা করে নববধূ একা রানী দাস। ১৬ সেপ্টেম্বর চান্দিনায় যৌতুকের দাবিতে ফেরদৌসী আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ১৮ সেপ্টেম্বর মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে শাহজাহান (৫০) নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ নৌকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ২৪ সেপ্টেম্বর নাঙ্গলকোটে জেসমিন বেগম নামের চার সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি এটা হত্যাকান্ড।

অক্টোবর মাসে মোট ৮ টি হত্যাকান্ড ঘটে। আর দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ৯ অক্টোবর দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ভানী মধ্য পাড়ায় শশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে রহস্যজনকভাবে জামাতার মৃত্যু হয়। ২০ অক্টোবর সদর উপজেলার দূর্গাপুর চম্পকনগর (সাতওরা) গ্রামে মেহেদী হাসান (১০) নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২১ অক্টোবর সদর দক্ষিণের রাজেশপুর মহিষমারার একটি ঝোপ থেকে রোববার সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাত যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২১ অক্টোবর বুড়িচং উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে পর্তুগাল প্রবাসী হাবিবুল্লাহ প্রকাশ্যে আমির হোসেন এর স্ত্রী তামান্না আক্তার (১৯) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহতের বাবার পরিবারের দাবী তামান্নাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২৩ অক্টোবর তিতাসে শাহরিয়ার(২৫) নামে যুবলীগের কর্মী পরিচয়দানকারী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৩ অক্টোবর বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে এসে সোহাগ মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ২৫ অক্টোবর সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে দুই কন্যার জননীকে পিটিয়ে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। ২৬ অক্টোবর বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল গ্রামে তানজিনা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে। কীটনাশক পানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান শশুরবাড়ির লোকজন। তবে তানজিনা আক্তারের বাবার দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েকে। ২৭ অক্টোবর বুড়িচংয়ের কংশনগর গোমতী ব্রিজ এলাকা থেকে দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদের চানপুর গ্রামের মোঃ আলী (২৩)নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৯ অক্টোবর মুরাদনগর উপজেলার ব্রাহ্মণচাপিতলা গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নভেম্বরে ৮ টি হত্যাকান্ড হয়। ৩ নভেম্বর লাকসামে পুকুর থেকে অন্তঃস্বত্তা মহসিমা আক্তার সুমি (২৮) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৫ নভেম্বর দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের পাশে ব্রিফকেসের ভিতর থেকে ১৩ বছরের কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। ১৪ নভেম্বর দেবিদ্বার সাইলচর (কোরের পাড়) এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির (৩৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ নভেম্বর দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাছিয়া গ্রামের জমি থেকে বিজয় কর্মকার(৩৪) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার উদ্ধার করা হয়। ২০ নভেম্বর বুুড়িচংয়ে উত্তর শ্যামপুর এলাকায় ফাতেমা আক্তার বিনা (২৭) নামে এক গৃহবধু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কিন্তু নিহতের পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২১ নভেম্বর চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাকির হোসেন (৪৮) নামে এক নসিমনচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২২ নভেম্বর কুমিল্লা লালমাই উপজেলার ফয়েজগঞ্জ বাজারের সংলগ্ন রেল লাইনে পাশ থেকে অজ্ঞাত এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে জিআরপি পুলিশ। ২৮ নভেম্বর কুমিল্লার চান্দিনায় গণপিটুনিতে রিপন (৩২) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে।

ডিসেম্বরে ৬ টি হত্যাকান্ড ঘটে। মুরাদনগরে গোমতী নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ৫ ডিসেম্বর সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় । ৭ ডিসেম্বর সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলা গ্রামে স্বামীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে ৫ সন্তানের জননী বিউটি আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি এটা হত্যা। ১২ ডিসেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি ল্যাবরেটরি স্কুলের হোষ্টেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। ২৪ ডিসেম্বর সকালে চৌদ্দগ্রামে অজ্ঞাত এক মুসলিম যুবকের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২৬ ডিসেম্বর নিমসার বাজারে থামানো একটি কাভার্ডভ্যান থেকে চালকের পিছনের সিটে কম্বলে মোড়ানো একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউপির লুধুয়া এলাকা থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *