রোগীদের টাকায় চলে টাঙ্গাইল ডায়াবেটিক হাসপাতাল

ডায়াবেটিস সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ (১৪ নভেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। তবে এ ব্যাধি সম্পর্কে এখনো অসচেতন টাঙ্গাইলবাসী। ফলে এ জেলায় ক্রমশই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

এদিকে টাঙ্গাইল জেলায় এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় রয়েছে মাত্র একটি হাসপাতাল। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় সেখানে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা রোগীদের চিকিৎসা থেকে আয়ের উপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালের সেবা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট নয় সংশ্লিষ্টরা। এতে এ হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।

জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সাবালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় জেলার একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতাল। ৩৫ জন কর্মকর্তা কমচারী নিয়ে পরিচালিত এ হাসপাতালের প্রধান, ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসারসহ রয়েছেন আরও চারজন চিকিৎসক। সপ্তাহের শুক্রবার ছাড়া বাকি ছয়দিন সকাল ৮ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৭৫ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন এ হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগের জিটিটি (গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট) পরীক্ষা ফি ২৮০, এবিএফ (আফটার ব্রেকফাস্ট) ১০০, লিবার ১৮০, কিডনি ১৮০ আর হার্টের ইসিজি ফি ১৬০ টাকা।

হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রুমি খান, বুলবুল মল্লিক, নয়ন, মর্জিনা বেগমসহ একাধিক রোগী বলেন, বছরের একটি দিন (১৪ নভেম্বর) র‌্যালি আর সভা সেমিনারে সীমাবদ্ধ রেখে নামমাত্র বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালনে কতটা সচেতনা বৃদ্ধি সম্ভব? এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভয়াবহ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমন অবস্থায় এ রোগ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহবুব বিন রশীদ।

তিনি জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের হার্ট, কিডনি, লিভার ও ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্তের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। এ জন্য এ রোগের সঠিক চিকিৎসায় টাঙ্গাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রয়োজন।

তিনি জানান, বর্তমান হাসপাতালে শুধু ডায়াবেটিস রোগের সেবা দেয়া সম্ভব হলেও হার্ট, কিডনি, লিভার ও ব্রেন জনিত রোগের চিকিৎসক না থাকায় এসব রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এ জেলায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়াও হাসপাতালে কর্মরতদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে রোগীদের কাছ থেকে নেয়া ফি দিয়ে। যা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ডায়াবেটিস চিকিৎসক ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. সৈয়দ ইবনে সাঈদ জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে সংক্রমণ ব্যাধির বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা রয়েছে। এ কারণে দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ডায়াবেটিসের মত অসংক্রমণ ব্যাধির বিষয়েও এই মুহূর্তে সরকারের দৃষ্টি প্রয়োজন।

এই চিকিৎসকের মতে বর্তমানে সুষম খাদ্যাভাসের অভাবসহ হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম না করার কারণে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *