শাকিবের সঙ্গে দ্বন্দ্বে সদস্যপদ হারান শামীম

সামনেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। আর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে শিল্পী সমিতি নিয়ে নানা রকম শোরগোল চলছে। অভিযোগ উঠেছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেকের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে অন্যায়ভাবে সদস্য পদ বাতিল করার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বরাবর উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ফাইট ডিরেক্টর মো. শেখ শামীম।

৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের নামে উকিল নোটিশ পাঠান তিনি।

উকিল নোটিশে ফাইট ডিরেক্টর মো. শেখ শামীম অভিযোগ করেন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটি অন্যায়ভাবে তার সদস্যপদ বাতিল করেছে। নব্বই দশক থেকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য তিনি। তখন থেকেই সমিতির নির্বাচনে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু ২০১৭ সালে যখন তিনি শিল্পী সমিতির চাঁদা দিতে যান তখন তিনি জানতে পারেন যে, তার সদস্যপদ নেই। পরবর্তী সময়ে তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সদস্যপদ ফিরে পেতে মৌখিক ও লিখিত আবেদন করেন। তবুও তারা নতুন ভোটার তালিকায় তাকে জায়গা দেননি।

নোটিশে আরও বলা হয়, পাঁচ দিনের মধ্যে যদি পূর্ণ সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়া না হয় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।

এদিকে শামীমের অভিযোগের ব্যাপারে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তার সদস্যপদ বাতিল করিনি। শামীমের সদস্যপদ বাতিল করা হয় আরও ১০ বছর আগে। তখন তো আর আমরা সমিতির দায়িত্বে ছিলাম না। একটি মহল আমাদেরকে বিতর্কিত করার জন্য এমনটা করছে।’

এদিকে শাকিব খানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে শিল্পী সমিতির সদস্যপদ হারিয়েছেন শামীম। সদস্যপদ বাতিলের কারণ জানতে চাইলে শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একবার শুটিং করার সময় শাকিব খানের সঙ্গে আমার হাতাহাতি হয়। তখন সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন শাকিব-অমিত কমিটি। এরপরেই তিনি অন্যায়ভাবে আমার সদস্য পদ বাতিল করেন।’

গত নির্বাচনে জায়েদ খানের পক্ষে নির্বাচন করেছেন শামীম। সেবার নির্বাচনের রাতে শাকিব খান নির্বাচনী বুথে প্রবেশ করার সময় শামৗীম প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন শিল্পীদের তোপের মুখে শাকিব খান এফডিসি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর শাকিব খান যে মামলা করেছিলেন সেই মামলাতে দুই নম্বর আসামি হিসেবে ছিল শামীমের নাম।

এদিকে জায়েদ খান-মিশা প্যানেল এতদিন সমিতির দায়িত্ব পালন করলেও শামীমের সদস্যপদ নবায়ন করা হয়নি। কেন করা হয়নি সে বিষয়ে জানেন না শামীম। তালিকায় নিজের নাম না পেয়ে তাই উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।

এদিকে জায়েদ খান বলেন, ‘শামীম ভাই অনেক সিনিয়র একজন ফাইট ডিরেক্টর। আমি নিজেও তার ডিরেকশনে কাজ করেছি। তার সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল। তবে তিনি গত দুই বছরে আমাদের কাছে আসেননি, যে কারণে সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি শামীম ভাইকে বুঝিয়ে বলেছি। তিনি তা বুঝতে পেরে উকিল নোটিশ ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।’

উকিল নোটিশ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে শামীম বলেন, ‘তারা আমাকে বুঝিয়ে উকিল নোটিশ গ্রহণ করেনি। হাতে হাতে উকিল নোটিশ না নিলেও কোর্ট থেকে একটি কপি উনাদের কাছে আসবে। জানি না, সেটার কি হবে। এটা শুধু আমার বিষয় নয়, এবার অনেকেই সদস্যপদ হারিয়েছেন। অন্যরাও হয়তো প্রতিবাদ করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *