শিশুকন্যাকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

একুশের বার্তা ডেস্ক- নীলফামারীতে তিন বছরের শিশুকন্যা বৃষ্টি আক্তারকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা টুলটুলি বেগম (২৩)।

সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের দারোয়ানী রেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত টুলটুলি বেগম নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের ধনীপাড়া গ্রামের তারেক হোসেনের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী সৈয়দপু র উপজেলার কয়া গলাহাট পশ্চিম পাড়ার বুদারু মামুদের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৭টার দিকে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন টুলটুলি বেগম ও তার শিশু মেয়ে বৃষ্টি আক্তার।

টুলটুলি বেগমের বড় ভাই দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘ছয় বছর আগে বোনকে বিয়ে দিই। তারেক মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রায় সময় আমার বোনের ওপর নির্যাতন করত। রোববার আমার বোনের একটি কানের দুল সে বিক্রি করে দেয়। এ নিয়ে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়।’

‘একপর্যায়ে সে আমার বোনকে বেদম প্রহার করে। এ কারণে রাগে-দুঃখে আমার ভাগনিকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বোন আত্মহত্যা করেছে’ যোগ করেন তিনি।

টুলটুলি বেগমের শ্বশুর হামিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সকালে বউমা তার বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে লোকমুখে জানতে পারি আত্মহত্যার খবর।

তার ছেলে তারেক বাদাম-বুট ফেরি করে বিক্রি করে বলে জানান তিনি। সে মাদকাসক্ত নয় বলেও দাবি করেন হামিদুল ইসলাম।

সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে টুলটুলি বেগম আত্মহত্যা করেছেন। তারেক মাদকাসক্ত হতে পারে বলে তার ধারণা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক ফিরেজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *