বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: ভূমি ব্যবহার ও বর্জ্য সরবরাহ চূড়ান্ত করার নির্দেশ

বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার এবং বর্জ্য সরবরাহ চুক্তিনামা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি পত্র প্রেরণ করে।        

চিঠিতে বলা হয়, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ সাত কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনে প্রেরণ করবে। সিটি করপোরেশন পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং করপোরেশনের সভায়  অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়।’                  জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মালিকানাধীন নগরের হালিশহরের আনন্দ বাজার এলাকায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। ২৫ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটির নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। চসিকে বর্তমানে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। গত বছরের ২০ আগস্ট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ও চসিক  ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডাকশন (আইপিপি) ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা চুক্তি হয়।  

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি স্থান নির্ধারণ ও বর্জ্য সরবরাহ নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে। এর পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিবেশ সুন্দর হবে, রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

চসিক-পিডিবি সমঝোতা স্মারক মতে, চসিক বিনামূল্যে বর্জ্য সংগ্রহ করে প্ল্যান্টে পৌঁছে দেবে। দৈনিক আড়াই হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিডিবি বিল্ড ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও) পদ্ধতিতে বেসরকারি উদ্যোক্তা ঠিক করবে। পক্ষান্তরে এ ব্যাপারে পাঁচটি আন্তঃমন্ত্রণালয় একটি মডেল তৈরি করেছে। 

এ মডেল মতে, সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্দিষ্ট পরিমাণে বর্জ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান সাপেক্ষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আইপিপি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনসমূহ বিনামূল্যে জায়গা প্রদান করবে। এর মাধ্যমে সিটি করপোরেশনসমূহকে বর্জ্য ফেলার জন্য ভবিষ্যতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে না। ফলে সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান হবে, হ্রাস পাবে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে নাগরিক সেবার মান।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক টন কঠিন বর্জ্য থেকে ৫৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য পুড়িয়ে তার পরিমাণ কমিয়ে ফেলা যায়। এক্ষেত্রে বর্জ্য পুড়িয়ে এর পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব। বর্জ্যগুলো পোড়ালে তাপ উৎপাদিত হবে। উৎপাদিত তাপ কাজে লাগিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ফুটিয়ে বাষ্প উৎপাদন করা হবে এবং টারবাইন ঘুরিয়ে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *