মানুষের আগে চাঁদে বসতি গড়বে পৃথিবীর এই প্রাণী

টারডিগ্রেডের কত নাম! ওয়াটার বিয়ারস বা জল ভালুক ও মস পিগলেটস বা শেওলা শূকরছানা নামেও পরিচিত তারা। এই অতিক্ষুদ্র প্রাণীর টিকে থাকার ক্ষমতা অসাধারণ। এমনকি নিম্ন তাপমাত্রা ও বিরূপ আবহাওয়া সয়ে যায় এদের গায়ে।

দ্য আর্চ মিশন ফাউন্ডেশন এই প্রজাতির কিছু প্রাণীকে বিশেষ অবস্থায় মহাকাশে পাঠিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কিছু ভবিষ্যতে বেঁচে উঠবে।

এপ্রিলে চাঁদের গায়ে আচড়ে পড়ে ইসরায়েলি বেরেসিট স্পেসক্রাফট। এর মধ্যে দ্য আর্চ মিশনের পাঠানো হাজার খানেক টারডিগ্রেড রয়ে গেছে।

এই প্রাণীটি কখনো এক মিলিমিটারের বেশি বড় হয় না। এদের শুধু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। পানিতে লাইকেন বা শেওলা জাতীয় গুল্মে এবং বরফ আচ্ছাদিত পাহাড় বা মেরু অঞ্চল থেকে শুরু করে নমনীয় নিরক্ষীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রের গভীরতার চরম পরিবেশে এদের পাওয়া যায়।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য আর্চ মিশন ফাউন্ডেশন নবী নূহের নৌকার ধারণা নিয়ে মানুষের ইতিহাস পৃথিবীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। মহাশূন্যে পাঠানো তাদের লুনার লাইব্রেরিতে ডিভিডি আকারে একটি আর্কাইভ পাঠানো হয়। যেখানে পৃথিবী সম্পর্কে ৩ কোটি পাতার তথ্য রয়েছে। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে মানুষের ডিএনএ’র নমুনা ও শুষ্ক টারডিগ্রেড।

দ্য আর্চ মিশন ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নোভা স্পিভাক সিএনএনকে বলেন, “টারডিগ্রেড বাছাই করার কারণ তার বিশেষ। আমাদের জানা মতে, তারা জীবনের সবচেয়ে কঠিন রূপ। কার্যকরীভাবে যেকোনো গ্রহ বিপর্যয়ে টিকে থাকতে পারে। তারা শূন্যস্থান ও বিকিরণে বেঁচে থাকতে পারে।”

আট পা বিশিষ্ট টারডিগ্রেডের রয়েছে মগজ ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র। মুখের সঙ্গে খাবার শিকারের বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। দ্য আর্চ মিশন তাদের শরীরকে একদম শুষ্ক অবস্থায় মহাশূন্যে পাঠিয়েছে। বিপাকক্রিয়ার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ০.০১ ভাগ রাখা হয়েছে।

ডিহাইড্রেট অবস্থায় প্রাণীগুলোর পুনরুৎপাদন সম্ভব। যদি মহাকাশযানের পতনে টিকে থাকে, তবে পানির স্পর্শ পেলেই তারা বেঁচে উঠবে। সেই হিসেবে মানুষের আগে চাঁদে বা মহাকাশে প্রথম বসতি স্থাপন করবে এই আণুবীক্ষণিক প্রাণী। যদিও এখনো জানা যায়নি মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষ ঠিক চাঁদের কোন অবস্থানে রয়েছে।

গবেষকদের আশা টারডিগ্রেডের পাশাপাশি চাঁদে বিধ্বস্ত লুনার লাইব্রেরির বেশির ভাগ তথ্য টিকে থাকবে। সুদূরের ভবিষ্যতে মানুষের উত্তরসূরিরা বর্তমান প্রজন্ম ও তাদের লাখো বছরের বিবর্তনের ইতিহাস জানতে পারবে। এমনকি ডিএনএ ও কোষ থেকে বর্তমান মানুষকে ক্লোন করা যাবে। পুনরুৎপাদন করা যাবে মানব প্রজাতি এবং অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ। হয়তো ততদিনে টারডিগ্রেডের বড়সড় কলোনিতে পরিণত হবে চাঁদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *